ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
নাতনিকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় যশোরের ঝিকরগাছায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত রাজমিস্ত্রী এনামুল সরদার (৫৫) হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে এজাহারভুক্ত আসামি রবিউল ইসলাম মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিহত এনামুল সরদার ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ৮ জুন রাত প্রায় ৯টার দিকে এনামুল সরদার স্মরণপুর জামতলা মোড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর বাঁশতলা তিন রাস্তার মোড়ে মতিনের দোকানের সামনে পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, ছুরি, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
এ ঘটনায় ৯ জুন মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১১) দায়ের হয়। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান হাজরা জানান, হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড রবিউল ইসলাম ঘটনার রাতেই দেশত্যাগের প্রস্তুতি নেন এবং ৯ জুন ভোর সাড়ে ৬ টার ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় চলে যান। একই দিন মামলা রুজুর পর দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আসামিদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশটির পুলিশ কুয়ালালামপুরের সেলাঙ্গর এলাকার সুবাং পাডদানায় অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্ট থেকে ১০ জুন দুপুরে রবিউল ইসলামকে আটক করে। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার একটি কারাগারে রয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করে। মামলার এক নম্বর আসামি হুসাইনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে র্যাবের অভিযানে আরও দুই আসামি রাব্বি ও রাকিব আটক হয়।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত হুসাইন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ও স্বীকার করেছেন।
ওসি আরও বলেন, "ইতোমধ্যে আরও কয়েকজন আসামিকে নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
এনামুল সরদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দ্রুত সব আসামির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।