যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল ইসলাম স্ট্যান্ড রিলিজড

খুলনা অফিস

প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুন,২০২৬, ০১:২১ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২১ জুন,২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল ইসলাম স্ট্যান্ড রিলিজড

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার) করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখা-১ এর এডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই তথ্য জানানো হয়। পরিপত্রে তাকে ২১ জুন রোববারের মধ্যে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।এই সময়কালে তাদের হাতে খুন হয়েছেন অন্তত ৮৯ জন। এ ছাড়া গুলি ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধের ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকাটিও অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। তবে একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও চরম আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ থানায় কোনো অভিযোগ করতে পারেন না। অন্যদিকে পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও রহস্যজনকভাবে কোনো অপরাধী ধরা পড়ে না। মূলত এই অচলাবস্থা নিরসন ও স্থানীয়দের আস্থা ফেরাতেই এলাকার বিভিন্ন মোড়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিল পুলিশ।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, এই এলাকার ঘরে ঘরে অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী। কার দুটো মাথা আছে যে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে পুলিশকে তথ্য দেবে? তা ছাড়া পুলিশের মধ্যেই সন্ত্রাসীদের তথ্যদাতা বা সোর্স রয়েছে। পুলিশকে গোপন তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সন্ত্রাসীদের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। যার কারণে এলাকায় পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও একজন সন্ত্রাসীও ধরা পড়েনি।

ওই ব্যক্তি আরও জানান, সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানালে উপস্থিত কয়েকজন বলে ওঠেন, তথ্য দিলে পুলিশই তা ফাঁস করে দেয়। তাই সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করার আগে পুলিশ অফিসারদের নিজেদের শোধরানোর পরামর্শ দেন তারা।

এর প্রেক্ষিতে চরম উত্তেজিত হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘দারোগা বা ইন্সপেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি সেই ইন্সপেক্টরকে ঝুলায় দেবো। আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দেবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি, গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।’

জনসম্মুখে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার এমন উগ্র ও অসংযত বক্তব্যের পর পুলিশ বাহিনীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সব সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে।

অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ বক্তব্য প্রদানকালে আরও সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, যাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি সমুন্নত থাকে।

একই সঙ্গে বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। এই ঘটনার পরই শনিবার রাশিদুল ইসলাম খানকে হেডকোয়ার্টার্সে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলো।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)