ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল ছাড়ার আগে পানামাকে ছয় গোলের বন্যায় ভাসিয়েছে পাঁচ বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা। এর প্রথম দুটি এসেছে খেলার প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে এসেছে বাকি চারটি। অবশ্য, এজন্য তাদেরকে দুর্বল এই প্রতিপক্ষের দেওয়া দুটি গোল হজম করতে হয়েছে।
খেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ব্রাজিল টিমের একসাথে দশজন খেলোয়াড়ের পরিবর্তন। একেবারে শেষ মুহূর্তের ম্যাচে এমন জয়ে দলের প্রতি প্রত্যাশাটা আরও বেড়ে গেছে ব্রাজিল সমর্থকদের।
মারাকানায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ছয় জন ভিন্ন খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কাসেমিরো, রায়ান, লুকাস পাকেতা, ইগর থিয়াগো ও দানিলো গোল করেন।
তবে বড় এই জয়ের রাতেও প্রথমার্ধের খেলা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে একসঙ্গে দশ খেলোয়াড় পরিবর্তনের পরই ব্রাজিলের খেলায় চেনা ছন্দ দেখা গেছে।
মারাকানা স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে দ্বিতীয় মিনিটেই ব্রাজিলকে গোল এনে দেন ভিনিসিয়ুস। তবে ১৪তম মিনিটে সমতা ফেরায় পানামা। সেটি অবশ্য ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ম্যাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পাল্টে যাওয়ার কারণে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আনচেলত্তি দল খেলিয়েছেন ৪-২-৪ ফরমেশনে, তাতে দুই মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমেরেস ও কাসেমিরোকে চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে।
উইঙ্গারদের দূরপাল্লার পাস বা বাতাসে ভাসিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা খুব একটা কাজে দেয়নি এ সময়। নিচ থেকে আক্রমণও তেমন একটা গড়ে ওঠেনি।
তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভিনির দারুণ এক ক্রস থেকেই হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন কাসেমিরো।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় ১০ জন খেলোয়াড়ই বদলে ফেলেন আনচেলত্তি, ফরমেশন সাজান ৪-৩-৩-এ। মাঝমাঠে ফ্যাবিনিওর সঙ্গে লুকাস পাকেতা ও দানিলোর মেলবন্ধনে ব্রাজিল খেলায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। ধার বাড়ে আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও।
এ সময়েই গোল পান বোর্নমাউথ ফরোয়ার্ড রায়ান (৫৩ মিনিট), পাকেতা (৬০), থিয়াগো (৬৩)) ও দানিলো (৮১)। মাঝে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে পানামার কার্লোস হার্ভি একটি গোল শোধ করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
ম্যাচ শেষে কোচ আনচেলত্তি উচ্ছ্বাস ও সংশয় দুটিই প্রকাশ করে বলেন, ‘ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ আমার মাথায় আরও বেশি সংশয় তৈরি করেছে। তবে এটি দলের জন্য ভালো, কারণ সুস্থ প্রতিযোগিতা ও ইতিবাচক সংশয় থাকাটা জরুরি।’
৪-৩-৩ ফরমেশনে দলের ভালো খেলা কি বিশ্বকাপ কৌশলেও প্রভাব ফেলবে, এমন আলোচনায় এই ইতালিয়ান রসিকতা করে বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত আমি কিছুটা রহস্য বজায় রাখতে চাই, কারণ তা না হলে আমাদের কথা বলার মতো কিছু থাকবে না।
এটি আপনাদের সবার (সাংবাদিকদের) জন্য সহায়ক হবে, কারণ নেইমারের (দলে জায়গা পাওয়ার) বিষয়টি তো শেষ হয়ে গেছে। আমাদের যা করতে হবে তা হলো কথা বলার মতো একটা ভালো বিষয় তৈরি করা, যাতে মানুষ উৎসুক হয়ে থাকে।’
এই ম্যাচের আগে ও পরে মাঠে নামেন নেইমার। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানায়। পুরোপুরি ফিট হয়ে না ওঠায় নেইমার যে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না, সেটি আগেই জানা গিয়েছিল।
ম্যাচ শেষে রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্য ছুটি দেওয়া হয় খেলোয়াড়দের। বিকেলে পুরো দল একত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে চড়ার কথা রয়েছে।
সেখানেই যোগ দেবেন শনিবার রাতে হাঙ্গেরিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলা মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিরা।