স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
দেশের অন্যতম ফুটবল ঐতিহ্যবাহী জেলা যশোরে টানা সাত বছর ধরে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ বন্ধ থাকায় জেলার ফুটবল কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লীগ না হওয়ায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ক্লাবগুলো হারাচ্ছে তাদের কার্যকারিতা এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।
একসময় দেশের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যশোর জেলা থেকে বহু প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে এসেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত লীগ আয়োজন না হওয়ায় নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে অনেকেই ফুটবল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সাবেক ফুটবলার শেখ রিন্টু তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যশোরের সর্বস্তরের মানুষ, খেলোয়াড়, ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকরা চাই যশোর ফুটবল লীগ দ্রুত চালু করা হোক। দীর্ঘদিন লীগ না থাকায় অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার হতাশ হয়ে পড়ছেন। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের অভাবে অনেকেই খেলোয়াড়ি জীবন থেকে সরে যাচ্ছেন।’
অন্যদিকে, ফুটবলার শাহিন মিয়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় যশোরের ফুটবলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে ফুটবল খেললেও এখন পর্যন্ত যশোরে মাত্র দুটি ফুটবল লীগ খেলার সুযোগ পেয়েছেন।
শাহিন মিয়া বলেন, ‘যশোরের ফুটবল অন্ধকার জগতে চলে গেছে, এখনো সেই অন্ধকারেই আছে। এখান থেকে আলো-বাতাসের মুখ দেখবে কি না, তা বলতে পারছি না। কর্মকর্তারা ভেটান (বয়স্ক) ফুটবলারদের নিয়ে বেশি আগ্রহী। উদীয়মান ও তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে তাদের নজর নেই। আমি কর্মকর্তাদের বলব, চেয়ার নিয়ে কামড়াকামড়ি না করে যশোরের ফুটবলকে বাঁচান।’
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক তরুণ ফুটবলার ও ক্রীড়াপ্রেমী তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, সাবেক জেলা দলের খেলোয়াড় আশরাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, যশোরের ফুটবলকে বাঁচানোর দাবিতে তিনি অচিরেই বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তিনি জেলার সকল ফুটবলার, ক্রীড়া সংগঠক এবং ফুটবলপ্রেমীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে যশোরের ফুটবল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ)। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির কোনো কার্যকর কমিটি নেই। কমিটি সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই জটিলতার কারণে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সর্বশেষ নির্বাচনে যশোরের কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না। একই পরিস্থিতি ছিল পার্শ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরার ক্ষেত্রেও।
তবে সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি যশোরের ফুটবলারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের প্রত্যাশা, সাতক্ষীরার মতো যশোরেও দ্রুত একটি অ্যাডহক বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ফুটবল মাঠে ফিরবে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোরের ফুটবলকে পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত সাংগঠনিক সংকট নিরসন, নিয়মিত লীগ আয়োজন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে ফুটবলার ও ফুটবলপ্রেমীদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কবে হবে, যশোরের ফুটবল কবে আবার প্রাণ ফিরে পাবে-সেই উত্তর সময়ই বলে দেবে।