স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
অভয়নগরের আলোচিত সেই তরুণী এবার সাংবাদিককে হুমকি দিচ্ছেন। ধর্ষণের অভিযোগ তুলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা দাবি করা ওই তরুণীর ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় জিডি করেছেন।
উপশহর বি ব্লকের বাসিন্দা সাংবাদিক ইব্রাহিম হোসেন ঈশান জিডিতে উল্লেখ করেছেন, ‘ওই তরুণী সোনিয়া আক্তার দিয়া তার প্রেমিকের সাথে ঝগড়া করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আমিসহ কয়েকজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ধারণ করি। পরে কয়েকটি গণমাধ্যমে বিবাদীর ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করতে থাকে ওই তরুণী। আমি পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে ভিডিও ধারণ করার বিষয়টি বারবার তাকে বুঝিয়ে বলি। কিন্তু তিনি এতে কর্ণপাত না করে হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখেন। সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ওই তরুণীসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আমার উপশহরের বাসার সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রকাশ্য হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আশ আশেপাশের লোকজন জড়ো হলে ওই তরুণীসহ তার সঙ্গীরা আমাকে দেখে নেওয়া হুমকি দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ধর্ষণের অভিযোগ তুলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা দাবি করা ওই নারী সম্প্রতি প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের সদুত্তরও দিতে ব্যর্থ হন। বরং সাংবাদিকরা টাকা দাবি করা ওই তরুণীর ভিডিও ফুটেজ উপস্থাপন করলে তিনি ভ্যাবাচাকা হয়ে যান। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই ঘটনার পর তরুণী সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীকে হুমকি-ধামকি দেওয়ার পথ বেছে নেন।
আলোচিত ভিডিওতে দেখা যায়, সংবাদকর্মীর প্রশ্নের উত্তরে ওই তরুণী যশোরের একজন তরুণ ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দিক দশ লাখ টাকা, দিক।’
সংবাদকর্মী তখন বলেন, ‘দেবে কি না আমি বলে দেখবো। ওই রকম কথা বলা যাবে না, যেটা অসাধ্যের বিষয়।’ নারী তখন জানতে চান, ‘তাহলে কত দেবে?’
প্রসঙ্গত, কথিত ধর্ষণের ঘটনায় দেওয়া এজাহারে উল্লিখিত তরুণ ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করেছেন তরুণী। তবে অভিযোগে তিনি ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। সঙ্গত কারণেই ব্যবসায়ীর ধারণা, তার কাছ থেকে টাকা হাতানোর উদ্দেশ্যে এই কাজটি করা হয়েছে। তরুণীর ভিডিও বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।