ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
শৈলকুপা পৌর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে উত্ত্যক্তের শিকার এক নারীকে সহযোগিতা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক এএসআই ও এক কনস্টেবল।
পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ছয়জনকে আটক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে হামলার শিকার এএসআই আনিচুর রহমানকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পৌর এলাকার কলাহাটের বন্ধুবাড়ি রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে রেস্টুরেন্টে কফি খাচ্ছিলেন শৈলকুপা থানার এএসআই আনিচুর রহমান। একটি মামলার বিষয়ে কথা বলতে তিনি জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ আলীকে সেখানে ডাকেন। এ সময় মাহমুদা খাতুন (৩৪) নামে এক নারী এসে অভিযোগ করেন, স্থানীয় নয়ন নামে এক ছাত্রদল নেতা তাকে উত্ত্যক্ত করছে। তিনি নিরাপদে চৌরাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এএসআই আনিচুর রহমান তখন থানার কনস্টেবল আনিচকে ওই নারীকে এগিয়ে দিতে বলেন। তবে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নয়ন ও তার সহযোগীরা কনস্টেবল আনিচের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এএসআই আনিচুর রহমানও হামলার শিকার হন। একপর্যায়ে তিনি রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে কলাপসিবল বন্ধ করে ওসিকে জানান।
রাত ১০টার দিকে ছাত্রদল, যুবদল ও পুলিশের সমন্বয়ে কথিত মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয় রেস্টুরেন্টটিতে। সেখান থেকে মাহমুদা খাতুন, আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আলীসহ চারজনকে আটক করা হয়। পরে আরও দুইজনকে আটক করে পুলিশ।
শৈলকুপা থানার এসআই আবুল কাশেম জানান, আটক ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য এবং তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটক ছয়জন ছাড়াও সিজান ওরফে সেজান নামের একজন এবং অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আটক মাহমুদা খাতুন আগে যুব মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে রেস্টুরেন্টে দেখে স্থানীয় কয়েক যুবক তাকে পাকড়াওয়ের চেষ্টা করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনায় আহত কনস্টেবল আনিচকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন জানান, পাবলিক অ্যাসল্টের ঘটনায় আহত হয়ে এক পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
এএসআই আনিচুর রহমান বলেন, আমি শুধু একজন নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে কনস্টেবলকে এগিয়ে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার পরই হামলা হয়।
সহকর্মী আটকের বিষয়ে অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান তুহিন বলেন, মাসুদ আলীকে মামলার বিষয়ে কথা বলতে পুলিশই রেস্টুরেন্টে ডেকেছিল। পরে তাকেই সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এটি হয়রানিমূলক।
মাসুদ আলীর চাচা অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন বলেন, একজন নারী উত্ত্যক্তের ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না করে নিরীহদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবীর মোল্লা বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। তারা নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, আমাদের কাছে দুটি ঘটনা আলাদা হিসেবে এসেছে। পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।