চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি অফিসার) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শহরের বসুতিপাড়ার একটি বহুতল ভবনের ভাড়া বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
জীবননগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে তিনি জীবননগরে আইসিটি অফিসার পদে যোগদান করেছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল ও জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে এক সন্তানের জনক মাহমুদুর রহমান আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন।
নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, সাংসারিক বিষয়াদি নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে, মাঝে মাঝে সামান্য ঝামেলা হলেও তা আবার দ্রুত মিটে যেত। তিনি বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বৃহস্পতিবার রাতে কিংবা শুক্রবার তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ হয়নি। সকালে তিনি ছেলের জন্য জুস কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন। জুস কিনে বাসায় ফেরার পর দেখতে পান ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীদের ডেকে এনে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মাহমুদুর রহমানকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ জানান, মাহমুদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তসাপেক্ষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।