সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছেন সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা।
বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সম্মেলন কক্ষে প্রকৃত সাংবাদিকদের তুলনায় অপসাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল বেশি।
ফলে পেশাদার সাংবাদিকদের অনেকেই বসার জায়গা পাননি। এ সময় সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কাছে ব্রিফিংটি দ্বিতীয় ধাপে আয়োজনের অনুরোধ জানান।
সাংবাদিকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, ‘দ্বিতীয়বার প্রোগ্রাম করার সুযোগ নেই। আগে আসলে বসার জায়গা পেতেন।’
জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে একযোগে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। পরে জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি আবুল কাশেম বলেন, ‘সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে আমরা সকলে প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছি।’
সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপ্পি বলেন, একজন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। তিনি নিজেই নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধাঘণ্টা পরে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেছেন, অথচ সাংবাদিকদেরই দোষারোপ করেছেন।
সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সম্মান ও বসার পরিবেশ নিশ্চিত না করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে বেরিয়ে আসা সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি, মমতাজ আহমেদ বাপ্পি, আরটিভির রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই ইলাহী, এটিএন বাংলার এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাভিশনের আসাদুজ্জামান, ডিবিসির এম বেলাল হোসেন, এখন টেলিভিশনের আহসান রাজিব, যমুনা টিভির আকরামুল ইসলাম, এশিয়ান টিভির মশিউর রহমান ফিরোজ, নাগরিক টেলিভিশনের কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি, স্টার নিউজের গাজী ফরহাদ, এনপিবির হোসেন আলী, টাইমস্ টুডে ও বাংলাদেশ বুলেটিনের মিলন বিশ্বাস এবং ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।