কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত।
অবশ্য, ইউএনও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জেলা প্রশাসক বলছেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ইউএনও-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। মুহূর্তেই তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠে। তার অভিযোগের তদন্তের দাবি করেন ছাত্রদলের এই নেতা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে নিশাত দাবি করেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি নিজ উপজেলা মিরপুরে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় ইউএনওর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হন। পরবর্তীতে এসব অনিয়মের বিষয়টি তৎকালীন জেলা প্রশাসকসহ বর্তমান জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক জেলা প্রশাসক ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কোনো ধরনের চাঁদা আদায় না করার নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে মিরপুর উপজেলার প্রতিটি সার ডিলারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, রমজান মাসের আগে বিভিন্ন ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত শুকনা খাবার নিরপেক্ষভাবে বিতরণ না করে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিশাতের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সিল ও স্বাক্ষর গোপনে নিয়ে ইউএনও নিজেই ঠিকাদারের মতো বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করেছেন।
ফেসবুক লাইভে তিনি আরও বলেন, উপজেলার ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মানীভাতা প্রদানেও বৈষম্য করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে, অভিযোগগুলো অস্বীকার করে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম জানান, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রতি বছরের মতো ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিতে অনুদান নেওয়া হয়। এতে কোনো ধরনের জোর বা বাধ্যবাধকতা নেই।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, যে-ই অভিযোগ করুক না কেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হবে।