সৈয়দ শাহ মোস্তফা হাসমী
, যশোর
আসছে ১২ জুন বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে যশোরজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ।
ইতিমধ্যে শহর থেকে গ্রামের অলিতে-গলিতে, বাড়ির ছাদে উড়তে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকোসহ প্রিয় দলের পতাকা। তরুণদের গায়ে প্রিয় দলের জার্সি।
আধুনিক যুগে ঘরে ঘরে টেলিভিশন ও স্মার্টফোনের আধিক্য থাকলেও যশোরের ফুটবলপ্রেমীরা ঐতিহ্য ধরে রাখতে মেতেছেন উল্লাসে। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজারের মোড় ও গ্রামীণ ক্লাবের সামনে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এবারের বিশ্বকাপটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। এই প্রথম রেকর্ড সংখ্যক ৪৮টি দেশ এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে। ফিফা ইতিমধ্যেই প্রতিটি দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে মাঠ কাঁপাবেন এক হাজার ২৪৮ জন ফুটবলার, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ১০৪ ম্যাচের এই দীর্ঘ টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উন্মাদনা।
চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ৩৫৭ জন এর আগে অন্তত একবার বিশ্বকাপ খেলেছেন। অন্যদিকে, ৮৯১ জন ফুটবলার এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চের স্বাদ নিতে যাচ্ছেন। ফলে, অভিজ্ঞতা ও নতুনত্বের এক দারুণ লড়াই দেখা যাবে মাঠে।
তারপরও বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য এক নজির গড়তে যাচ্ছেন ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়া। এই তিন কিংবদন্তি তারকা নিজেদের ক্যারিয়ারে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি।
এদিকে, এবারের বিশ্বকাপে বয়সের দিক থেকেও রয়েছে দারুণ চমক। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় স্কটল্যান্ডের ৪৩ বছর ১৬২ দিন বয়সী গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন মেক্সিকোর ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সী তরুণ তুর্কি গিলবার্তো মোরা। সব মিলিয়ে আর মাত্র সাত দিন পর বিশ্বজুড়ে শুরু হচ্ছে ফুটবল রোমাঞ্চ, যার ছোঁয়া ইতিমধ্যেই লেগেছে যশোরবাসীর মনে।
যশোর জেলরোড এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন জানান, ছেলে-মেয়ে ব্রাজিলের সমর্থক তাদের মন রক্ষা করতে বাড়ির ছাদে ব্রাজিলের পতাকা লাগাতে হয়েছে। শুধু তাই না ছেলে-মেয়েদের জার্সিও কিনে দিতে হয়েছে।
নতুন উপশহর এলাকার ফুটবল খেলোয়াড় ফুটবল প্রেমী কাজী জামাল উদ্দিন বলেন, এক সময় ছিল তখন বল আসলেই এলাকার মানুষ মিলে বাজারে মোড়ে মোড়ে ও বাসা বাড়িতে রাত জেগে টিভিতে খেলা দেখান। সাথে তো চা, নাস্তা থাকতো। এখন আধুনিক যুগ বাসা বাড়িতে বিভিন্ন মডেলের টিভি, হাতে স্মার্টফোন। এ সকল ডিভাইসের কারণে আগের সেই আনন্দ মানুষের মধ্যে নেই। তারপরও এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে এলাকার বাজারে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে।
যশোর সদরের নওয়াপাড়া এলাকার কৃতী খেলোয়াড় প্রয়াত আখতারুজ্জামানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এলাকার অধিকাংশ বাসা বাড়িতে প্রিয় দলের পতাকা লাগানো হয়েছে। গ্রামের চায়ের দোকানে টেলিভিশনের মাধ্যমে খেলা দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠায়।