সম্পাদকীয়
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি অনন্য দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। এদিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ পাবেন। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে কতটুকু ভূমিকা রাখবে, তা নির্ধারণে এই গণভোট গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্বেগের বিষয় হলো, গণভোট সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, তাদের অনেকেই গণভোটের প্রক্রিয়া ও তাৎপর্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত নন। সরকারি প্রচারণা সীমিত হওয়ায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মনোযোগ মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক হওয়ায় গণভোট সম্পর্কে ব্যাপক জনআলোচনা গড়ে উঠছে না।
এ পরিস্থিতিতে গণভোট ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। গণভোটে স্বল্প উপস্থিতি বা অস্পষ্ট ফলাফল দেশের সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে পারে, যা কাম্য নয়।
আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত গ্রহণ একটি সময়োপযোগী ও গণতান্ত্রিক উদ্যোগ। তবে এই প্রক্রিয়ার সফলতা নিশ্চিত করতে সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও মাধ্যমগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। গণভোটের বিষয়বস্তু, প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বজনীন, নিরপেক্ষ ও বোধগম্য প্রচারণা জোরদার করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে তরুণসহ সব শ্রেণির নাগরিককে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনি এজেন্ডার পাশাপাশি গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। ভোটিং প্রক্রিয়া সরল ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে হবে।
গণভোট হলো জনগণের সরাসরি ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যম। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সকল নাগরিকের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আসুন, আমরা সকলেই সচেতনভাবে নিজ নিজ মতামত প্রদান করে দেশের সাংবিধানিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখি।
একটি জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী শাসনব্যবস্থা গঠনে এই গণভোট হতে পারে আমাদের সম্মিলিত আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন।