যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

গ্যাস সংকট: বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ

সোবহান নিপুণ

প্রকাশ : রবিবার, ১৮ জানুয়ারি,২০২৬, ১০:০০ এ এম
গ্যাস সংকট: বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ

দেশে সংকট নতুন কিছু নয়। সংকট থাকবে, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমাজে, এটিই যেন চিরন্তন বাস্তবতা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেসব সংকট তৈরিতে সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকা নেই, যেসব সংকটের ধারেকাছেও তারা কখনও যায়নি, সেই সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ বোঝা কেন বারবার এসে পড়ে খেটেখাওয়া শ্রমিক, দিনমজুর ও চাষাভুষা মানুষের কাঁধেই।

বাস্তবতা হলো, যারা পরিকল্পিতভাবে সংকট তৈরি করে, যারা সংকটকে পুঁজি করে লাভবান হয়, তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর সংকট নিরসনে যে সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা, তারা পড়ে যায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর চরম অসহযোগিতার মুখে। অনেক সময় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে চাইলেও নানা চাপ ও স্বার্থান্বেষী মহলের বাধায় পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এরই বাস্তব উদাহরণ দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে।

গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। অনেক এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস নেই বললেই চলে। রান্নার চুলা জ্বালাতে না পেরে মানুষ বাধ্য হয়ে এলপিজির দিকে ঝুঁকেছে। কিন্তু সেখানেও তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম সংকট।

দেশে ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশই রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ১২ কেজির সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি প্রচলিত, যার সরকার নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৩০৬ টাকা। অথচ বর্তমানে সেই সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে। তাও অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

বেশ কিছুদিন ধরেই বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কৃত্রিমভাবে মজুদ ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরপর দুটি দুর্ঘটনার কারণে ঢাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এক সপ্তাহ ধরে ব্যাহত হয়েছে। এতে রাজধানীর বহু এলাকায় মানুষ রান্না করতে পারছে না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকটের প্রভাব শুধু ঘরের রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলোতেও সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি না পেয়ে গাড়ির মালিক ও চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খেটেখাওয়া মানুষ। দিনমজুর, রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী পরিবারগুলোর সংসারের খরচ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক পরিবারে তিনবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়ছে।

অথচ এই সংকট তৈরিতে সাধারণ মানুষের কোনো দায় নেই। যারা সংকট সৃষ্টি করেছে, যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে লাভবান হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনো চোখে পড়ছে না।

এই অবস্থায় খেটেখাওয়া মানুষ তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে। তাদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে, কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

না হলে এই ‘হযবরল’ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়বে সেই মানুষেরাই, যারা কোনো সংকটের কারিগর নয়, অথচ প্রতিটি সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।

লেখক: সাবেক সংবাদকর্মী, বিশ্লেষক

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)