কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
ভুয়া কাবিন, তালাকনামা এবং এফিডেভিটসহ প্রতারণার অভিযোগ এনে আইনজীবীসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ। বুধবার (১১আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের আদেশে বাদিনীর এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি। মামলাটি এফআইআর করে যথযথ আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
অভিযুক্ত নোটারি পাবলিক পিএম সিরাজুল ইসলাম আদালত অবমাননা, নৈতিক স্খলন ও জাল-জালিয়াতিতে জড়িত অভিযোগে কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি থেকে বহিষ্কৃত। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জলহাজ উদ্দিনের ছেলে মহিদুল ইসলাম মিশন (৩৬) এবং কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলার বাসিন্দা আফিল উদ্দিনের ছেলে অমিত হাসান (৪০)।
এ খবর নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, আদালতের আদেশপ্রাপ্তির মধ্যদিয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করে ইতোমধ্যে নিযুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শুরু করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিবাদী মহিদুল ইসলাম মিশনের সাথে বৈবাহিক ও দাম্পত্য জীবনে আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে ওই নারীর। দাম্পত্য জীবনের এই পর্যায়ে এসে বিবাদী মহিদুলের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় প্রথম স্ত্রী বাদিনীর অজান্তেই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বিবাদী।
এঘটনার প্রতিকার ও বিচার চেয়ে বাদিনী আদালতে নালিশি মামলা করেন। ওই মামলা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য বিবাদী মহিদুল আপস মীমাংসার কথা বলে জাল-জলিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। নোটারি পাবলিক পিএম সিরাজুল ইসলামের চেম্বারে অপর যোগসাজসী সহযোগী অমিত হাসানদের সাহায্যে বাদীর বিরুদ্ধে ভুয়া তালাকনামার বিপরীতে আবার বাদীকে বিয়ের কাবিন তৈরি করেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে ভুয়া তালাকনামা সৃষ্টি করেন। একই সাথে বাদিনীর সাথে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকারে একটি ভুয়া এফিডেভিট তৈরি করেন।
আসাদের পরস্পর যোগসাজসে এসব ভুয়া কাগজপত্রের শর্ত ভঙ্গ করায় বাদিনী ন্যায়বিচার চেয়ে আবার আদালতের দ্বারস্ত হন।
আদালতের আদেশে তদন্তে নেমে বাদিনীর নালিশি এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ পায়। নোটারি পাবলিক আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলামের চেম্বারে সম্পন্ন হওয়া সকল সকল কাগজপত্রে জাল-জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।
এ ঘটনায় প্রতারিত ভুক্তভোগী বাদিনী বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত এজাহারটি আমলে নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসিকে মামলা রেকর্ডের আদেশ দেন।
তবে অভিযোগ বিষয়ে নোটারী পাবলিক আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলামের ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া মেলেনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ফোনে বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরেই আদালত চত্বরে অসাধু নোটারি পাবলিক আইনজীবীদের ভুয়া বিয়ের কাবিন, তালাকনামা ও কোর্ট ম্যারেজের নামে করা ভুয়া এফিডেভিটে জনগণের সাথে প্রতারণাসহ বাল্যবিয়ের দৌরাত্মে সাধারণ জনগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় আদালতের নজরেও এসেছে। এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে এক ভুক্তভোগী কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ১৩, তারিখ: ১১/০৮/২০২৬। মামলাটি দণ্ডবিধি ৪৬৫/৪৬৭/৪৬৮/৪৬৯/৪৭১ ধারার অপরাধ গণ্য করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।