লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
পদ্মা ও মধুমতী সেতু চালুর পর ঢাকা-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে এই মহাসড়কের কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল অংশ এখনও পর্যাপ্ত প্রশস্ত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের বেহাল দশায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পর কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের প্রায় ৭০ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত সরু। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। মাঝেমধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ গর্তগুলো ইট-বালু দিয়ে ভরাট করলেও বৃষ্টিতে তা আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় সরু ও খানাখন্দে ভরা সড়কেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ক্রসিং ও ওভারটেকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ছে কিংবা অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। এতে বাড়ছে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা ও মধুমতী সেতু চালুর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৭ জুন পর্যন্ত নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কে ছোট-বড় ৮০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন।
স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল অংশ দ্রুত চার লেনে উন্নীত অথবা পর্যাপ্ত প্রশস্ত করা না হলে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে। একই সঙ্গে সড়কটি দ্রুত সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও চালক জাহাঙ্গীর বলেন, ওভারটেকিং কিংবা ক্রসিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে অথবা অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সড়কটির এই অংশ চার লেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না। বর্তমানে মহাসড়কটি খানাখন্দে ভরা। দ্রুত সংস্কার না করলে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান বলেন, পদ্মা ও মধুমতী সেতুর কারণে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সড়কটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় সেই সুবিধা অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পথচারী, যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে সড়কটি প্রশস্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, নড়াইল জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর একটি ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল সড়ক। বর্তমানে সড়কটির প্রশস্ততা মাত্র ২৪ ফুট।
তিনি বলেন, হঠাৎ করে সড়কটির ব্যস্ততা ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে। সাময়িকভাবে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যাল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে সড়কটি স্থায়ীভাবে প্রশস্ত করার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা-মাওয়া-নড়াইল-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের কালনা এলাকায় মধুমতী নদীর ওপর দেশের প্রথম ছয় লেনের ‘মধুমতী সেতু’ উদ্বোধন করা হয়। এরপর ঢাকা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন নড়াইল রুট ব্যবহার করছে।
তবে সেতুর সংযোগ সড়কগুলো আধুনিক ও প্রশস্ত হলেও এর সঙ্গে যুক্ত মূল মহাসড়কের কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল অংশ এখনও সরু রয়ে গেছে। ফলে পদ্মা ও মধুমতী সেতুর পূর্ণ সুফল পেতে এই মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।