খুবিতে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন
শাম্মী আক্তার মিথি
, খুবি
দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবরেশনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ইউআরপি লেকচার থিয়েটারে ‘ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবরেশন: এন্ট্রারপ্রেইনারশিপ, ইনোভেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবরেশনের অংশ হিসেবে ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণ। শিল্পখাত সেই জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিকে বাস্তবে প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রূপান্তর করে।
তাই দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান উন্নয়নে ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবরেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির জন্য কারিকুলাম উন্নয়নে শিল্পখাতসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও কর্মক্ষেত্রের সুযোগ বাড়াতে অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক এবং সামাজিক ও পেশাগত যোগাযোগও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। তরুণদের এমনভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এ লক্ষ্যে স্টার্টআপ খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাখাতে তার বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সময়োপযোগী এ উদ্যোগ নেওয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী।
স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির উপ-রেজিস্ট্রার মো. নূরুল ইসলাম সিদ্দিকী।
কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, অ্যাকাডেমিক অফিসের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
পরে মুক্ত আলোচনা পর্বে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা জোরদার, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের শিল্পখাতে প্রয়োগ এবং উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ দেন অংশগ্রহণকারীরা।
পর্বটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটির সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-বসতি রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, দি জুট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব), ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস), টোটাল ফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড, মিশু ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আছিয়া সী ফুডস লিমিটেড।
এমওইউর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনের সমন্বয় হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়বে।