স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দীন ইসলাম নামে এক জামায়াত সমর্থককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তবে আটকের আগে তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দীন ইসলাম যশোর সদর উপজেলার বারীনগর এলাকার আলী আকবারের ছেলে।
হৈবতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে দীন ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ও অকথ্য ভাষায় বক্তব্য দেন।
একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন রাষ্ট্রপতি হতে না পারেন- এমন মন্তব্যও করেন তিনি। এ বিষয়ে একাধিক ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করা হয় বলেও দাবি মাহবুবুর রহমানের।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে দীন ইসলামকে আটক করেন। পরে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
তবে কথিত ওই ভিডিওগুলোর কোনোটি তার কাছে নেই। সব ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল প্রথম ঘটনাটি দেখতে পান; ভিডিও তার কাছে থাকতে পারে।
বিল্লাল মেম্বার বলেন, দীন ইসলাম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন এবং বাজারের অনেক মানুষ সেগুলো দেখেছেন। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে কথিত ভিডিওগুলোর কোনো কপি তার কাছে আছে কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ফেসবুক সম্পর্কে তার ধারণা কম এবং ভিডিও তার কাছে নেই।
অন্যদিকে, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার আমির হোসেন বলেন, দীন ইসলাম জামায়াতের একজন সমর্থক। বারীনগর বাজারে তার একটি জুতার দোকান রয়েছে।
দোকানটি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।
সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুর রউফ বলেন, প্রথমে তারা খবর পান স্থানীয়রা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আটক করে রেখেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা জানতে পারেন, আটক ব্যক্তি জামায়াতের সমর্থক।
পরে তাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে কথিত কটূক্তির ভিডিও তার কাছে নেই বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দীন ইসলামকে হেফাজতে নেয়। ঘটনার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।