খুবি প্রতিনিধি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) উপাচার্যের বক্তব্য ‘বিকৃত ও বিভ্রান্তিকরভাবে’ উপস্থাপনের অভিযোগে ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ -এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মিরাজুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চিঠিতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংবাদের তথ্যসূত্র, সংশ্লিষ্ট অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত ১০ জুন জারি করা হয় এবং ১৪ জুন সাংবাদিকের হাতে পৌঁছায়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত "প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে খুবিতে বৃক্ষরোপণ" শীর্ষক প্রতিবেদনে উপাচার্যের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উপাচার্যের বক্তব্যের সারবস্তু যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি এবং তা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক মিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি পেশাগত দায়িত্ব ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করেই সংবাদটি প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিবেদনের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তিনি মনে করেন, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম বা সম্পাদকীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করাই প্রচলিত পদ্ধতি। শিক্ষার্থী পরিচয়ের ভিত্তিতে সরাসরি তথ্যসূত্র ও অডিও রেকর্ড তলব করাকে তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাংবাদিকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছেও এ বিষয়ে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের পাশাপাশি সম্পাদকীয় বিভাগেরও সম্পৃক্ততা থাকে। ফলে কোনো প্রতিবেদন সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাইলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কাছেই তা চাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, সংবাদটি যদি পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়ে থাকে, তাহলে এ ধরনের পদক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস)।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সাংবাদিক তার তথ্যসূত্র বা অডিও রেকর্ড প্রকাশে বাধ্য নন। তারা শিক্ষার্থী-সাংবাদিকের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের চিঠি প্রত্যাহারের দাবি জানান।