স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের ইছালী ইউনিয়নের এক সময়ের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মঈদুল্লাহ ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় 'উইনকরেক্স' সিরাপ উদ্ধারের দাবি করেছে র্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা। গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে মঈদুল্লাহর 'বেস্ট ব্রেড অ্যান্ড বেকারি' কারখানা, তার অফিস ও বাড়িঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে মঈদুল্লাহর পরিবার। তাদের দাবি, মঈদুল্লাহ মাদক ব্যবসা ছেড়ে বর্তমানে বৈধভাবে বেকারির ব্যবসা করছেন।
সম্প্রতি র্যাবের এক সদস্যের ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাকে এই মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হতো, কিন্তু র্যাব সদস্যরা প্রতিষ্ঠানে ঢুকেই সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলে হঠাৎ করেই সাদা পোশাকে র্যাবের পাঁচ-ছয়জন সদস্য কারখানায় যান। তারা ভেতরে ঢুকেই প্রথমে সিসি ক্যামেরার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। এরপর সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হার্ডডিস্কটি খুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তারা মূল তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সেখানে কোম্পানি কমান্ডারও উপস্থিত হন।
এদিকে অভিযানের খবর পেয়ে মঈদুল্লাহর পরিবারের সদস্যসহ গ্রামের অসংখ্য মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। দীর্ঘ তল্লাশি শেষে কারখানার জেনারেটর রুম থেকে ওই মাদক উদ্ধারের দাবি করে র্যাব।

এ সময় পরিবারের সদস্যরা র্যাবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে থাকলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে র্যাব সদস্যরা মঈদুল্লাহকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স বলেন, ‘মঈদুল্লাহ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার নামে ৯টি মামলা রয়েছে, যার অধিকাংশই মাদকসংক্রান্ত। এই মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়েরের পর আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
ফাঁসানোর ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’