যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মাস পেরতে চললেও শেষ হয়নি ‘দশদিন’

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে,২০২৬, ১২:০০ পিএম
মাস পেরতে চললেও শেষ হয়নি ‘দশদিন’

যশোরের কেশবপুর পৌরকর্তৃপক্ষ সবশেষ দশদিন সময় দেন ভবন মালিককে তা ভেঙে ফেলার জন্যে। কিন্তু এক মাস পার হতে চললেও সেই ‘দশদিন’ এখনও আসেনি। ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বিধিবহির্ভূতভাবে নির্মিতব্য পাঁচতলা ভবনটির বিষয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোরের কেশবপুর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের ব্যস্ততম এলাকায় বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের মেইন লাইনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচতলা ওই ভবন।

স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন একটি মরণফাঁদ। কারণ ভবনের একেবারে পাশ দিয়েই ঝুলছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তার। সামান্য অসতর্কতা কিংবা দুর্ঘটনাই ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ প্রাণহানি। দিন-রাত আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করছেন আশপাশের ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘প্রতিদিন ভয় নিয়ে চলাফেরা করি। ভবনের গা ঘেঁষে এতো ভোল্টেজের লাইনের তার গেছে। কিছুদিন আগে একটা দুর্ঘটনা তো হয়েই গেছে। এরপরও যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আরও বড় বিপদ হবে।’

কয়েক মাস আগে ভবনটিতে নির্মাণকাজ চলাকালে বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পরই মূলত ভবনটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ভবনটি নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু তখন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বাওশলা গ্রামের আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী রুলিয়া পারভীন মুক্তা পৌরসভার অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভবনটি নির্মাণ করছেন।

শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রেকসোনা খাতুন সরেজমিনে ভবনটি পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল তিনি ভবন মালিকপক্ষকে দশ দিনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। তখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন অপসারণ না করা হলে পৌরসভা নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেবে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সময় গড়িয়েছে, নোটিসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৮ দিন আগে। অথচ ভবনটি এখনো আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে। শুধু তাই নয়, কয়েকদিন আগেও ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, একের পর এক নোটিস, শ্রমিকের মৃত্যু, প্রশাসনের সতর্কবার্তা সবকিছুর পরও কীভাবে নির্মাণকাজ চলতে পারে? স্থানীয়দের একটি অংশ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন কেশবপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, দুই দফায় মোটা টাকার বিনিময়ে ভবন ভাঙার প্রক্রিয়ার সময় দীর্ঘ করা হচ্ছে।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হায়দার। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো ধরনের উৎকোচ গ্রহণ করিনি। একটি ভবন অপসারণে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া এমন অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

পৌরসভার নথি ঘেঁটে জানা গেছে, ভবনটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর, ২৬ নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি ভবন মালিকদের তিন দফা নোটিস দেওয়া হয়। প্রতিবারই ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ বন্ধ ও ভবন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানেনি মালিকপক্ষ।

সবশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আবারও চূড়ান্ত নোটিস দেওয়া হয়। ওই নোটিসে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৮ এবং বিএনবিসি-২০৩০ অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু নোটিসের পরও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

ভবন মালিক আনিছুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তার স্ত্রী রুলিয়া পারভীন মুক্তা ভবন ভাঙতে প্রশাসনের কাছে সময় চেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে তার ছেলে আলিফের মোবাইলফোনে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রেকসোনা খাতুন বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মালিকপক্ষকে দশদিনের নোটিস দেওয়া হয়। তখন মালিকের স্ত্রী রুলিয়া পারভীন মুক্তা লিখিতভাবে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। ঈদের আগে তার স্বামী দেশে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু তাকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন অপসারণ না করলে পৌরসভার পক্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)