স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রঙে রেখায় সুলতান’ শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন উৎসবের সনদপত্র প্রদান, সৃজনশীলতা সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গত ৭ আগস্ট যশোর জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন উৎসবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬২০ জন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। শিশুদের অংশগ্রহণে যশোরে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ এ চিত্রাঙ্কন উৎসব ব্যাপক সাড়া জাগায়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিশুদের সনদপত্র এবং বিজয়ীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের প্রাক্তন প্রধান শিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস, যশোর ইনস্টিটিউটের সহ-সম্পাদক এবং যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু এবং নড়াইলের এস এম সুলতান সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাস্কর ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শিল্পী মাহবুব জামাল শামিম, জীবন সদস্য আবুল বাসার শরফুদ্দৌলা, প্রাক্তন অধ্যক্ষ শিল্পী মফিজুর রহমান রুননু, উপশহর ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শাহীন ইকবাল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শিল্পী সান্ত্বনা শাহরিন নিনি এবং চারুপীঠের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ।
চারুপীঠের নৃত্য বিভাগের শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় বিশেষ নৃত্যালেখ্য ‘রঙে রেখায় সুলতান’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিশুদের ১২ জন মা অংশ নেন।
তাদের মধ্যে কেউ ব্যাংক কর্মকর্তা, কেউ গৃহিণী। তারা পেশাদার নৃত্যশিল্পী না হলেও সন্তানদের সঙ্গে একই মঞ্চে তাদের পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায় এবং অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
চিত্রাঙ্কন উৎসবে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিশুকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ সনদপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক, খ, গ ও ঘ-এই চারটি বিভাগে প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এছাড়া শিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নির্বাচিত ১০৩ জন শিশুকে দেওয়া হয় ‘বিশেষ স্বীকৃতি সম্মাননা’।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল
ক-বিভাগ
- ১ম: সোহাগি ইসলাম (ছোঁয়া)
- ২য় (যৌথ): মুহাইরাহ যাহরিন আদিনা ও অর্জুন
- ৩য়: আদ্রীশ চক্রবর্তী
- ৪র্থ: আতিফা হাছনিজা আবরিন
- ৫ম: আবরার জাহান সকাল
খ-বিভাগ
- ১ম: সালমান হোসাইন আল মামুন
- ২য়: হাবিবুল বাশার আনসারী
- ৩য়: আধিলা রসুল পার্শা
- ৪র্থ: জিনিয়ামিন রাইসা
- ৫ম: মারিয়াম রহমান আইযা
গ-বিভাগ
- ১ম: আমেনা জান্নাতী মানহা
- ২য়: আরাফ আইয়ান
- ৩য়: আহসাব ফারজিন শামস
- ৪র্থ: সৌম্যদ্বীপ দে
ঘ-বিভাগ
- ১ম: নুর-এ-আয়েশা আয়াত
- ২য়: দেবার্ষী চন্দ্র
- ৩য় (যৌথ): বিদ্যা মালাকার (মৌমি) ও জুনাইরা আকতার
- ৪র্থ: সপ্তর্ষি বসু
- ৫ম: আজমিয়া ফেরদৌস জোয়া
অনুষ্ঠানে ‘সর্বাধিক অংশগ্রহণ সম্মাননা’ প্রদান করা হয় জয়তি সোসাইটিকে এবং ‘উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ সম্মাননা’ প্রদান করা হয় মৌমাছি স্কুলকে।
অনুষ্ঠানে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় অনেক অভিভাবক ও দর্শককে দাঁড়িয়ে কিংবা হলের বাইরে থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসুবিধার জন্য চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।