সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সাতক্ষীরা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাটি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ গাজীর ছেলে মোজাম গাজী (৪৯) এবং নওয়াবেঁকী গ্রামের আবের গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম গাজী (৩৮)।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম গাজীকে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই সাতক্ষীরা কারাগারের হাজতি ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, মোজাম গাজী চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় এক বছরের সাজা ভোগ করছিলেন। আর রফিকুল ইসলাম গাজীর চেক ডিজঅনারের অন্য একটি মামলায় ১০ মাসের কারাদণ্ড ও ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাতক্ষীরা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কারাগার থেকে পালিয়ে যান মোজাম ও রফিকুলসহ বেশ কয়েকজন বন্দী। পরে তারা শ্যামনগরের নিজ নিজ গ্রামে ফিরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা কারাগার থেকে পালানো দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে কারাগার থেকে পালানো অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের পর ৮৭ জন বন্দী পালিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৫ আগস্ট মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৪৬ জন গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘদিন ৪১ জন পলাতক ছিলেন। তাদের মধ্যে সর্বশেষ এই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
ফলে কারাগার থেকে পালানো ৮৭ বন্দির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বাকি ৩৯ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।