স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
জমি আত্মসাতের উদ্দেশে জাল দলিল তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে যশোরে সাবেক সাব রেজিস্ট্রারসহ নয়জনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চাঁচড়া রাজবাড়ি এলাকার মৃত রমজান মোল্লার ছেলে আলমগীর সিদ্দিক বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগের তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো, চাঁচড়া রাজবাড়ি এলাকার নূর ইসলাম মোল্লা (৬০), সার্কিট হাউজ রোডের ডাক্তার মোসলেম উদ্দিন (৬৬), দলিল লেখক আতাউর রহমান (৫০), সাবেক সাব রেজিস্ট্রার কাজী রুহুল আমিন, আবুল বাশার, শাহাজান আলী, দলিল শনাক্তকারী মো. মতিয়ার রহমান, হাদিউজ্জামান ও মাহিদিয়া এলাকার রফিকুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, যশোর সদর উপজেলার ৭৭ নম্বর চাঁচড়া মৌজায় ২৫৯২ নম্বর ডিপি খতিয়ানের এসএ ১৪৭৩ ও ১৪৭৪ এবং হাল ৫০৬৬ নম্বর দাগে মোট ১ একর ৩৯ দশমিক ২৫ শতক জমি ওয়ারিশ সূত্রে বাদীসহ ১৯ জন শরিকের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। ২০১১ সালের ৩০ জুন ৭৮৭০/১১ নম্বর ভাগ-বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে শরিকরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে নেন। পরে নিজ নিজ নামে নামজারি ও পৃথক আরএস খতিয়ান তৈরি করে তারা জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে সরকারি খাজনা দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তারসহ অন্য শরিকদের অজ্ঞাতসারে ২০১২ সালের ১১ মার্চ বিভিন্ন নম্বরের ‘ভ্রম সংশোধন’ দলিল তৈরি করা হয়েছে। এসব দলিলে প্রকৃত মালিকদের নাম-ঠিকানা ব্যবহার এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
২০১১ সালের ভাগ-বণ্টননামা দলিলে থাকা জমির দাগ নম্বর পরিবর্তন করে এবং দাতা-গ্রহীতার তথ্য ও জমির পরিমাণে ভিন্নতা দেখিয়ে এসব দলিল তৈরি করা হয়। পরে এসব জাল দলিলকে সঠিক হিসেবে ব্যবহার করে জমি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি অবগত হয়ে আলমগীর সিদ্দিক ও তার শরিকরা বিষয়টি দলিল তুলে প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।