মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে লাল কস্টেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে কোনো এক সময় নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনের বেঞ্চের ওপর বোমা ও চিরকুটটি রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে দোকান খুলে পরিষ্কার করার সময় শরিফুল ইসলাম হাতবোমা ও চিরকুটটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করেন এবং নিরাপদে একটি পানিবর্তী পাত্রে সংরক্ষণ করেন।
উদ্ধার হওয়া ওই চিরকুটে লেখা ছিল, "এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বসবে না। যারা বসবে তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখব না।"

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতবোমা ও চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও চলতি মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে হাতবোমা ও হুমকিমূলক চিরকুট উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গত কয়েক দিন আগে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি বর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। মুকুল হোসেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব ধারাবাহিক ঘটনার মাধ্যমে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত এই রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।