স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ ছয় আসামির জামিন। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শার্শা আমলি আদালত) আদালতের বিচারক আছাদুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ মঞ্জুর করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গেট সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের সামনে ছুটিতে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশ সদস্য মামুন হাসান জুয়েলের সাথে টিটোন ও পিন্টু নামের দুই যুবকের কথাকাটাকাটি ও মারামারি হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে চায়ের দোকানদার তাৎক্ষণিকভাবে সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে অ্যাডভোকেট মিন্টু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) সাথে কথা বলে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতা করে দেন।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা হলেও ওই দিনই কন্যাদহ গ্রামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডিতে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।
কিন্তু জিডি করার পাঁচ দিন পর শার্শা থানা ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ টিম অ্যাডভোকেট মিন্টুকে আটক করতে শ্যামলাগাছী গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় উপস্থিত জনতা পুলিশের কাছে আটকের কারণ এবং ওয়ারেন্ট বা মামলার এজাহারের কপি দেখতে চাইলে পুলিশ তা দেখাতে পারেনি। একপর্যায়ে স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে ফিরে যায়।
এই ঘটনার রেশ ধরে গত ৪ জুন রাতে পুলিশ সদস্য জুয়েলের ভাই ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রয়েল শার্শা থানায় একটি নতুন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪, তারিখ: ০৪/০৬/২০২৬)। এই মামলায় অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ১ নম্বর আসামিসহ মোট ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই ঘটনায় প্রথমে জিডি এবং পরে আবার মামলা হওয়ায় বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
এদিকে আজ বুধবার সকালে মামলার এজাহারভুক্ত দুই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী মারুফ হোসেন ও মনির হোসেন বিজ্ঞ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একটি এফিডেভিট (হলফনামা) সম্পাদন করেন। হলফনামায় তারা উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় ১ নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন। এমনকি সাক্ষী হিসেবে তারা নিজেরাও ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের এই হলফনামা ও মামলার নানা অসঙ্গতি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। বিজ্ঞ বিচারক দীর্ঘ শুনানি শেষে ঘটনার সার্বিক দিক বিবেচনা করে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ মামলার সকল আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই আদেশকে 'ন্যায়ের জয়' বলে আখ্যায়িত করেছেন।