স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে ‘সিএসএস-এমএফপি’ এর অয়োজনে ১৬ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদে চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্থার পক্ষ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মোট ৯৬ হাজার টাকা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহরিয়ার হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসএসের যশোর অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার মো. মফিজুর রহমান। তিনি সংস্থার বিভিন্ন তথ্য ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, সিএসএস একটি জনকল্যাণব্রতী মানবিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। ১৯৭২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের ভাগ্যাহত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে সিএসএসের ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের ৪টি বিভাগের ২৭টি জেলার ২১০টি থানা বা উপজেলায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেক্টরের নানামুখী কর্মকাণ্ড বিস্তৃত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সিএসএসের মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় ২০০৬ সাল থেকে ‘হোপ নন-ফরমাল প্রাইমারি স্কুল’ পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ৪৭টি স্কুলের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১৪০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে স্কুলগামী করে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্থার উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (A+) প্রাপ্ত এবং বিশেষ কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে বিশেষ সংবর্ধনা ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
মো. মফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, এই বছরের ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী মোট ১২৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে আজ যশোরের ১৬ জনকে এই বৃত্তি দেওয়া হলো।
এ ছাড়াও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা মোতাবেক ৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার লক্ষ্যে 'এমআরএ-এফএমআই উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি' প্রদান কার্যক্রম নিয়মিত চলমান রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সিএসএস কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সকল কৃতী শিক্ষার্থী আগামীতে আরও অধিকতর সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, নাভারন অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার মিস্টার পার্থ কুমার সাহা, এরিয়া ম্যানেজার মিস্টার জগন্ময় সরকার, মিস্টার প্রবীর কুমার মন্ডলসহ সংস্থার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুবিধাভোগী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ।