যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ

বিশেষ প্রতিনিধি

, যশোর

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট,২০২৬, ০১:০০ এ এম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ

আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠেছে-কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে কি না।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে এবং দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হবে। তবে এটি এখনো সাংবিধানিকভাবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক প্রশ্ন’ বলে মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। অনুচ্ছেদটিতে ‘কোনো বিল’ বা ‘প্রস্তাবের ওপর’ ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে এর আওতার বাইরে রাখার সরল যুক্তি হলো-এটি কোনো বিল বা সংসদীয় প্রস্তাবের ওপর ভোট নয়।

তবে প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদকক্ষে দেওয়া ভোটকে ৭০ অনুচ্ছেদের অর্থে ‘সংসদে’ ভোটদান বলা হবে কি না। সংবিধানের ৪৮(১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হলেও এটি সংসদের নিয়মিত অধিবেশন নয়। সংসদ অধিবেশনে না থাকলেও নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করতে পারে। সেই বৈঠকে স্পিকার সভাপতিত্ব করেন না; প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে সভাপতিত্ব করেন।

২০ আগস্টের নির্বাচনও সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে পৃথক বৈঠকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে এটিকে নির্বাচন কমিশন পরিচালিত স্বতন্ত্র সাংবিধানিক নির্বাচন হিসেবে দেখার শক্তিশালী আইনি যুক্তি রয়েছে।

সাংবিধানিক ইতিহাসেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটের ব্যবস্থা ছিল। অর্থাৎ সংবিধানপ্রণেতারা একদিকে দলত্যাগবিরোধী বিধান রেখেছিলেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যের গোপন পছন্দের সুযোগও দিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের আইনে গোপন ব্যালটের পরিবর্তে প্রকাশ্য ভোট চালু হয়। ব্যালটে সদস্যের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভোটদাতাকে শনাক্ত করা যায়।

তবে প্রকাশ্য ভোট চালু হওয়া মানেই ৭০ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক পরিধি বেড়ে যাওয়া নয়। কোনো সদস্য দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দিলে তার ভোট বাতিল হবে-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে এমন বিধানও নেই। ভোট বৈধ হলে তা গণনা করার কথা। সদস্যপদ হারানোর প্রশ্নটি আলাদা।

সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সদস্যপদ নিয়ে বিরোধের নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে চিফ হুইপের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায় না। আগে নির্ধারণ করতে হবে, সংশ্লিষ্ট দল সত্যিই নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছিল কি না এবং সেই নির্দেশ অমান্য করে ভোট দেওয়া ৭০ অনুচ্ছেদের অর্থে ‘সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট’ কি না।

ফলে বর্তমান অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ ‘অবশ্যই প্রযোজ্য’-এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই। একইভাবে এটি ‘কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়’ বলাও আইনগতভাবে নিরাপদ নয়। সরাসরি বাধ্যতামূলক বিচারিক নজির না থাকায় বিষয়টি সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিতর্ক হিসেবেই রয়েছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)