১৭ জুন মঙ্গলবার প্রগতিশীল বাম আন্দোলনে যশোরের অন্যতম পুরোধা আলমগীর সিদ্দিকীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৭৭ সালের এইদিনে নওগাঁ জেলার একটি আবাসিক হোটেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার জীবনাবসান হয়। সেসময় তিনি রাজনৈতিক সফরে ছিলেন।
মরহুম আলমগীর সিদ্দিকী ছিলেন এদেশের শোষিত, নিপীড়িত, ভুখানাঙা মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত। ১৯৪৮, ৫২, ৬৯, ৭১ এবং পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে তার প্রতিনিয়ত সাংগঠনিক তৎপরতা সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই বাংলার স্মরণীয় হয়ে আছে।
যশোরের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি মিশে গিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মিছিলে। আলমগীর সিদ্দিকীর ছাত্রজীবনে ১৯৪২ সালের অসহযোগ আন্দোলন, ১৯৪৬ সালের রসিদ আলী আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৮ সালে বাঙালি জাতির জাতীয় মুক্তির লড়াই এবং এর সূচনায় ভাষা আন্দোলন।
ওই সময় যশোরে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগ্রামী পরিষদের তিনি আহবায়ক মনোনীত হন। মিছিলে বাধা এলে ছাত্র-পুলিশের সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামে প্রথম রক্ত ঝরে।
১৯৪৯ সালে বাংলার মহানায়ক মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সংগঠনের জন্য তিনি যশোর জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূর্যসৈনিক এবং পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন ও নেতৃত্ব দান করেন। ১৯৬৮-৬৯ এর আইয়ুববিরোধী ব্যাপক গণআন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে কর্মী বাহিনীকে উজ্জীবিত রাখেন। জেলার প্রতিটি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যে নেতার গতিময় সম্পর্ক, তিনিই যশোরের আলোকিত বরেণ্য জননেতা আলমগীর সিদ্দিকী।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি