ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ পৌরসভায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কসাইখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই স্বয়ংক্রিয় কসাইখানার উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এই আধুনিক কসাইখানাটি চালুর মাধ্যমে ঝিনাইদহে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের এক নতুন যুগের সূচনা হলো। এখানে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।
কসাইখানাটির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের 'লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)'-এর আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কসাইখানা নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

একই বছরের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'ক্রিস্টালটেক-এনএকে (জেভি)' এর নির্মাণকাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কসাইখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মোট ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে কসাইখানাটি পৌরসভার ৪৯ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মূল জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাটি প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটজুড়ে বিস্তৃত।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় জানান, কসাইখানাটিতে গরু ও ছাগল জবাই এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পৃথক দুটি আধুনিক 'স্লটার লাইন' স্থাপন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় এখানে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা হবে।
আধুনিক এই কসাইখানাটি পৌরবাসীর জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত মাংসের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।