কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই সন্তানের জননী নাজমা খাতুন।
শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর গ্রামের মো. সবুর শেখের মেয়ে নাজমা খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০০০ সালে সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার খোদ্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেন ননোর ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছর ভালোভাবে ঘর সংসার করার পর আলমগীর সাতক্ষীরা তেঁতুলিয়া জামে মসজিদের ইমামের স্ত্রী রওশন আরাকে ফুঁসলিয়ে বিবাহ করেন। এর দুই বছর পর পাটকেলঘাটা এলাকার আরিফা বেগম নামে আরেক মহিলাকে বিয়ে করেন। প্রতিবাদ করলে আলমগীর হোসেন দুটি মেয়েসহ তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর তাদের কোনো খোঁজ-খবর না রেখে অন্য স্ত্রীদের নিয়ে ঘর সংসার করতে থাকেন।
নাজমার বাবা সবুর শেখ একজন বাস শ্রমিক। বাবার সংসারে দুই মেয়েকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকার পর ২০১০ সালে পারিবারিক আদালতে খোরপোষ দাবি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২৬৫/১০। মামলার শুনানিশেষে শেষে বিজ্ঞ আদালত ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নাজমা ও তার মেয়েদের খোরপোষ বাবদ বকেয়া ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার আদেশ দেন।
এরপর আলমগীর হোসেন কয়েক দফায় তিন লাখ টাকা আদালতের মাধ্যমে পরিশোধ করলেও বাকি টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করেন। এরমধ্যে আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় বিজ্ঞ আদালত আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
এ খবর পেয়ে আলমগীর পাটকেলঘাটা থানার বড়বিলা গ্রামের আবদুর রশীদের ছেলে জুয়েল আহম্মেদ বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে গত ১৫.০৯.২০২৫ তারিখে সাতক্ষীরা সদর আদালতে নাজমাসহ তাদের তিন ভাই বোনকে আসামি করে একটি ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করেন।
ওই মামলায় নাজমার ছোট বোন দুই সন্তানের জননী আসমাউল হুসনা, স্বামী মাগফুর ইসলাম, গ্রাম কুশুলদিয়া, থানা ও উপজেলা কেশবপুর জেলা যশোর এবং তার ছোটভাই আবু সাঈদকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
তিনি জানান, সুচতুর জুয়েল গং নাজমার পরিবারকে হয়রানি করতে ওই মামলায় তাদের ভুয়া ঠিকানা দিয়ে (লটকানে) সমন জারি করিয়েছেন। আদালতের সমন তাদের হাতে না আসায় এরই মধ্যে বিজ্ঞ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বুনিয়াদে কেশবপুর থানা পুলিশ ইতিমধ্যে তার ছোট ভাই আবু সাঈদকে আটক করে জেলহাজতে পাঠান। এরপর নাজমা ও তার বোন আসমাউল হুসনা আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। যার মামলা নম্বর- ১৩০৬/২৫।
তিনি জানান, মামলায় তাদের তিন ভাই বোনকে নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আলমগীর তার সহযোগী জুয়েল বিশ্বাসকে দিয়ে ১৮ লাখ টাকার প্রতারণার যে মামলাটি আদালতে দাখিল করেছেন তাতে যে, স্ট্যাম্প প্রদর্শন করা হয়েছে- তাতে তাদের তিন ভাইবোনের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ জাল। ওই ঘটনার সাথে তারা জড়িত না এবং ওই মামলার বাদী জুয়েল বিশ্বাসসহ সাক্ষীদেরও কোনোদিন তারা দেখেননি এবং চেনেনও না।
এদিকে, বাবার সংসারে অভাব অনটন থাকায় নাজমা খাতুন ঢাকায় একটি বাসা বাড়িতে কাজ করেন। বড় মেয়ে আরিফাকে (২২) বিয়ে দিয়েছেন এবং ছোট মেয়ে আফিয়া (১৬) খুলনার একটি কওমি মাদরাসায় থেকে পড়ালেখা করে বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের হয়রানি করতে আলমগীর ও জুয়েল গং মিথ্যা মামলাসহ নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তিনি এই মামলাবাজদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ‘
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাজমা খাতুনের বৃদ্ধ বাবা সবুর শেখ ও তার বোন আসমাউল হুসনা।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জুয়েল বিশ্বাসের ফোনে একাধিকবার রিং করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। সেকারণে তার বক্তব্য সন্নিবেশ সম্ভব হয়নি।