যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে বইপড়া কর্মসূচি

অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান জানেনই না

গোলাম মোস্তফা

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট,২০২৬, ১২:০০ পিএম
চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে বইপড়া কর্মসূচি

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে পরীক্ষামূলকভাবে চলতি মাস থেকেই ‘বইপড়া কর্মসূচি’ চালু হচ্ছে।

যশোরের আট উপজেলার ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে এ বইপড়া কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এজন্য আট উপজেলার তিনটি করে প্রতিষ্ঠানের নাম মাউশিতে (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহফুজুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যদিও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সুবর্ণভূমিকে বলেছেন, বইপড়া কর্মসূচির বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার প্রধান মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বইপড়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। মোবাইল আসক্তি, মাদক থেকে দূরে রাখা এবং তরুণদের মানসিকভাবে পরিপক্ক, আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি।

প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) হিসেবে প্রতিটি উপজেলার তিনটি করে প্রতিষ্ঠানে চালু করার জন্য গত ৩০ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে সংগৃহিত তালিকা একত্র করে জেলা শিক্ষা অফিসারকে মাউশিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার গত সপ্তাহে ৮টি উপজেলার মোট ২৪টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠিয়েছেন। সে অনুযায়ী পাইলট প্রকল্পের ২৪টি প্রতিষ্ঠানে বইপড়া কর্মসূচি চালু হচ্ছে।

তালিকায় যশোর সদর উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, যশোর জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং জিরাট আলিম মাদরাসা।

এ বিষয়ে যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদিন জানান, সরকার স্কুল শিক্ষার্থীদের বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে বইপড়া কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। আমরা সর্বাত্মকভাবে এ কর্মসূচি সফল করার চেষ্টা করবো। শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি, পড়াশোনা না করে ঘুরে বেড়ানোর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বইপড়া কর্মসূচি খুব দরকার। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বইপড়া কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

যশোরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান ছাত্রজীবন থেকে বইপড়া আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সরকারের বইপড়া কর্মসূচিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে যশোর ইনস্টিটিউটে অনেক কথা বলেছিলাম। আগামী প্রজন্মকে সুস্থ, সঠিক রাখতে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে রক্ষা পেতে বইপড়ার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এসময় জানিয়েছিলেন, আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে দ্রুত বইপড়া কর্মসূচি চালু করবেন। এ কর্মসূচি সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

চৌগাছা উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, চৌগাছা সরকারি শাহাদত পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাতিবিলা হাজী শাঃ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাটগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

চৌগাছা কাটগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তবিবার রহমান বলেন, বইপড়া কর্মসূচিতে আমার এ প্রতিষ্ঠানের নাম আছে তা জানি না। বিষয়টি জেনে পরে বলতে পারবো।

অভয়নগর উপজেলার তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো, নওয়াপাড়া সরকারি শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাজঘাট জাফর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, অভয়নগর পায়রা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা।

পায়রা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার সুপার মো. আব্দুল মালেক বলেন, আমরা অধিভুক্তি নিয়ে ব্যস্ত আছি। বইপড়া কর্মসূচি সম্পর্কে কিছু জানা নেই।

যশোর শিক্ষা অফিস থেকে মাউশিতে পাঠানো তালিকায় নাম রয়েছে বাঘারপাড়া সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা। ওই মাদরাসার সুপার মো. সিদ্দিকুল্লাহ বলেন, বইপড়া কর্মসূচি সম্পর্কে কোনো কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে আমার সাথে কারও কোনো কথা হয়নি।

যশোরে ২৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় নাম আছে তা জানেন না ঝিকরগাছা অমৃতবাজার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার ফারুক।

জেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসার তিনটি করে প্রতিষ্ঠানের নাম পাঠিয়েছেন। সামান্য সময়ের ব্যবধানে এ তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ায় হয়তো শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলার সময় পাননি। কর্মসূচি চালু করার আগেই ওইসব প্রতিষ্ঠানকে বিস্তারিত জানানো হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহফুজুল হোসেন জানান, চলতি মাস থেকে শুরু হচ্ছে বইপড়া কর্মসূচি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রতিটি উপজেলার একটি করে বালক বিদ্যালয়, একটি করে বালিকা বিদ্যালয় ও একটি করে মাদরাসা চালু করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বইপড়া কর্মসূচি চালু হতে পারে। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সরকারের এ পদক্ষেপ আগামী প্রজন্মকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে সহায়তা করবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)