যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

হাটে পশুর দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ছাকিন হোসেন

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মে,২০২৬, ০১:০০ পিএম
হাটে পশুর দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পশুর হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে হাটগুলো।

ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে হাটে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। তবে, পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এর পাশাপাশি হাটে পর্যাপ্ত পশু চিকিৎসাসেবা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক বিক্রেতা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কুরবানির জন্য যশোরে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলার প্রায় ১৩ হাজার খামারি এসব পশু লালন-পালন করেছেন।

যশোরের শার্শা, চৌগাছা, মণিরামপুর, অভয়নগর ও সাতমাইলসহ বিভিন্ন পশুর হাটে উঠেছে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের দেশি ও ফ্রিজিয়ান-শঙ্কর জাতের গরু। দেশি গরুর সরবরাহ বেশি থাকলেও আশানুরূপ ক্রেতা না আসায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক খামারি।

এবার হাটে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে বিশাল আকৃতির কয়েকটি গরু ও ষাঁড়। ‘নেইমার’, ‘বিসিএস ক্যাডার’ ও ‘ঠাণ্ডা ভোলা’ নামের গরুগুলো দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

তবে, ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ মাঝারি আকারের গরুতে।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট গরু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়, মাঝারি গরুর দাম ১ থেকে ২ লাখ টাকা এবং বড় গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৩ লাখ টাকার ওপরে।

বিক্রেতাদের দাবি, পশুর খাবার ও পরিচর্যার ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় ন্যায্য দাম মিলছে না। তীব্র গরমে হাটে পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বিক্রেতা।

যশোর শহর সদর থেকে আসা ক্রেতা রমজান আলী বলেন, হাটে গরুর সংখ্যা ভালোই আছে, ছোট-বড় সব ধরনের পশু দেখা যাচ্ছে। আমরা কয়েকটা গরু পছন্দ করেছি, কিন্তু দাম এখনো একটু বেশি মনে হচ্ছে। বিক্রেতারা যে দাম বলছেন, সেটা অনেক সময় আমাদের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই আরও কয়েকটা হাট দেখে তুলনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে চাই।

অভয়নগরের ক্রেতা মারুফ সিকদার বলেন, এবার হাটে দেশি গরুর সরবরাহ বেশি দেখা যাচ্ছে, এটা ভালো দিক। বাজেটের মধ্যে ভালো একটা পশু খুঁজছি। দাম নিয়ে একটু চিন্তা থাকলেও বাজারে ঘুরে দেখার সুযোগ আছে। আশা করছি ঈদের আগেই পরিবারের জন্য পছন্দমতো একটা গরু কিনতে পারব।

চৌগাছার এক বিক্রেতা তারেক বলেন, অনেক আশা নিয়ে এবার গরু নিয়ে হাটে এসেছি। প্রায় এক বছর ধরে নিজের হাতে লালন-পালন করেছি। খাবার, ওষুধ আর পরিচর্যার খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কিন্তু হাটে এসে দেখি ক্রেতারা যে দাম বলছেন, তাতে লাভ তো দূরের কথা, খরচ ওঠানো নিয়েই চিন্তা হচ্ছে। এখন শেষ সময়ের দিকে তাকিয়ে আছি, যদি একটু ভালো দাম পাওয়া যায়।

মণিরামপুরের এক বিক্রেতা আবু তালেব বলেন, এই গরমে হাটে পশু নিয়ে থাকা অনেক কষ্টের। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে অনেক সময় পশু দুর্বল হয়ে যায় বা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সব সময় কাছাকাছি চিকিৎসা পাওয়া যায় না। হাটে পশুর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, চিকিৎসাসেবাটাও সেই অনুযায়ী আরও জোরদার করা দরকার।

হাট ইজারাদার খন্দকার মোজাম্মেল হক তবি বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে হাট পরিচালনার চেষ্টা করছি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য সার্বক্ষণিক তদারকি রাখা হয়েছে। পশু হাটে ওঠার পর কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। ভেটেরিনারি চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারেন এবং ক্রেতারাও স্বস্তিতে পশু কিনতে পারেন।

এ বিষয়ে ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, কুরবানিকে সামনে রেখে জেলার খামারিদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। বাজার পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

যদিও জেলার বিভিন্ন হাটে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বেচাকেনা হয়, তবে ঈদের আগ মুহূর্তে এখন প্রতিদিনই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। কোরবানির দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে যশোরের পশুর হাটগুলো।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)