যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ফ্রিজ এসি বিকোচ্ছে দেদার

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মে,২০২৬, ০২:০০ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে,২০২৬, ০২:১৬ পিএম
ফ্রিজ এসি বিকোচ্ছে দেদার

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের ইলেকট্রনিকস বাজারে বেড়েছে ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজ ও এসি বিক্রি। কোরবানির মাংস সংরক্ষণ, তীব্র গরম এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আকর্ষণীয় ছাড় ও কিস্তি সুবিধার কারণে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে শহরের বিভিন্ন শোরুমে। বিশেষ করে ডিপ ফ্রিজের চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি। একইসঙ্গে প্রচণ্ড গরমে এসির বাজারেও এসেছে বড় ধরনের গতি।

যশোর শহরের রেলরোড, পালবাড়ি, আরএন রোড, গাড়িখানা রোড ও চৌরাস্তা এলাকার বিভিন্ন শোরুম ঘুরে এবং বিক্রেতা-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কিস্তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফ্রিজ ও এসি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বিক্রেতারা বলছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদের আগে ফ্রিজের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আগে যেখানে সাধারণ রেফ্রিজারেটরের চাহিদা বেশি ছিল, এখন ক্রেতারা ডিপ ফ্রিজ ও বড় ক্যাপাসিটির ফ্রিজের দিকে ঝুঁকছেন। কারণ একসঙ্গে অনেক মাংস দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে বেশি ধারণক্ষমতা ও দ্রুত কুলিং সুবিধা প্রয়োজন হয়।

যশোর শহরের রেলরোড এলাকার ইলেকট্রোমার্ট শোরুমের ম্যানেজার উবাইদুর রহমান পলাশ জানান, তাদের শোরুমে গ্রি, কংকা ও হাইকি ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিকস পণ্য রয়েছে। বর্তমানে ফ্রিজের পাশাপাশি এসির বিক্রিও সমানতালে চলছে।

তিনি বলেন, গরম বাড়ার কারণে এসির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দেড় টনের এসি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমাদের এখানে ফ্রিজের দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। আর এসি বিক্রি হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।

গাড়িখানা এলাকার ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানান, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ডিপ ফ্রিজের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ২৮ হাজার ৯৯০ টাকা থেকে ৪৬ হাজার ৪৯০ টাকার মধ্যে ডিপ ফ্রিজ বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমাদের এখানে ১২৫ লিটার থেকে ৩০০ লিটার পর্যন্ত বিভিন্ন মডেলের রেফ্রিজারেটর রয়েছে। এছাড়া এক টনের এসি বিক্রি হচ্ছে ৪২ হাজার ৯৯০ থেকে ৭২ হাজার ৯৯০ টাকায়, দেড় টনের এসি ৫৩ হাজার ৯৯০ থেকে ৮৩ হাজার ৯৯০ টাকা এবং দুই টনের এসি ৮১ হাজার ৯৯০ থেকে ৯৮ হাজার ৯৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে।

চৌরাস্তা এলাকার বাটারফ্লাই শোরুমের ম্যানেজার সিরাজুম মঞ্জিলা বলেন, এবার ডিপ ফ্রিজের চাহিদা অনেক বেশি। আমাদের এখানে ডিপ ফ্রিজের দাম ২৭ হাজার ৯৯০ টাকা থেকে ৭৪ হাজার ৯৯০ টাকা পর্যন্ত। রেফ্রিজারেটর রয়েছে ১৭০ লিটার থেকে ৭১৭ লিটার পর্যন্ত, যার দাম ৩৫ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ইকো ব্র্যান্ডের এসি ৪৯ হাজার ৯৯০ থেকে ৯০ হাজার ৯৯০ টাকায় এবং বাটারফ্লাই এসি ৫৭ হাজার ৯৯০ থেকে ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

আরএন রোডের বেস্ট ইলেকট্রনিকসের ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান বলেন, এখন ক্রেতারা শুধু দাম দেখছেন না, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, কম্প্রেসর ও বিক্রয়োত্তর সেবাও গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের এখানে ১৫০ থেকে ৪০০ লিটার পর্যন্ত ডিপ ফ্রিজ রয়েছে, যার দাম ৩০ হাজার ৫০০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর ১৭০ থেকে ৭২০ লিটার পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরের দাম ২৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

শোরুমগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্রেতাই বড় পরিবারের জন্য মাঝারি বা বড় ক্যাপাসিটির ফ্রিজ খুঁজছেন। অনেকে আবার সাধারণ ফ্রিজের পাশাপাশি আলাদা ডিপ ফ্রিজ কিনছেন। কারণ কোরবানির সময় একসঙ্গে অনেক মাংস সংরক্ষণ করতে হয়।

উপশহর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, আগে ছোট ফ্রিজেই চলতো। কিন্তু এখন পরিবার বড় হয়েছে। ঈদের সময় মাংস রাখতে সমস্যা হয়। তাই এবার আলাদা ডিপ ফ্রিজ কেনার চিন্তা করছি।

গৃহিণী রাজিয়া সুলতানা প্রিয়া বলেন, গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ঈদের সময় আত্মীয়স্বজন আসা-যাওয়া বেশি থাকে। তাই বড় ফ্রিজ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ ও এসির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কারণ এগুলোতে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক কম হয়। একই সঙ্গে ৪ ও ৫ স্টার এনার্জি রেটিংযুক্ত পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে।

এদিকে নগদ ছাড়, স্ক্র্যাচ কার্ড, ক্যাশব্যাক অফার এবং ৬ মাস থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত কিস্তি সুবিধা দেওয়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই ইএমআই সুবিধাও দিচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদের আগের এক মাসেই বছরের মোট ফ্রিজ বিক্রির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। আর এবার গরমের তীব্রতার কারণে ফ্রিজের পাশাপাশি এসির বিক্রিও বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে যশোরের ইলেকট্রনিকস বাজারে এখন জমজমাট পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)