স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
সৌদি প্রবাসী এক নারীকে বিয়ে করে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফের সৌদি আরবে পাচারের অভিযোগে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার যশোরের চৌগাছা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের তোতা মিয়ার মেয়ে জল্পনা খাতুন এ মামলা করেন।
মামলায় মালয়েশিয়া প্রবাসী জব্বার আলীসহ তার পরিবারের চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
যশোরের মানব পাচার দমন ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক ড. আতোয়ার রহমান অভিযোগটি কোতোয়ালি থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দিয়েছেন।
এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলায় বাদীর আইনজীবী শেখ তাজ হোসেন তাজু।
মামলার আসামিরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কবিখালী-কাথুলী গ্রামের জাব্বার আলী (৪৪) ও তার স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০), ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২২) এবং মেয়ে নাছি বেগম (২৫)।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, জল্পনা খাতুন এর বোন দীর্ঘদিন সৌদিআরবে কর্মরত ছিলেন।
ফেসবুকের মাধ্যমে আসামি জাব্বার আলীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জাব্বার নিজেকে মালয়েশিয়া প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে তারা দেশে ফিরে ২০২১ সালের ১১ মার্চ যশোরে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর জল্পনার বোন জানতে পারেন জাব্বার আলীর আগে থেকেই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে জাব্বার তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে মাসিক এক লাখ টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এজন্য পাঁচ লাখ টাকা চাইলে তার বোন সরল বিশ্বাসে তাকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা দেন।
এরপর জাব্বার অপর আসামিদের সহযোগিতায় তার বোনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ২০২৩ সালের ২৪ মার্চ সৌদিআরবে পাঠিয়ে দেন। সেখানে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের কাছে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং তাকে অবৈধভাবে আটক রেখে দাসত্বমূলক কাজ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
দীর্ঘদিন তার বোনের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জাব্বার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তার বোন মোবাইল ফোনে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পাচারের বিষয়ে তাদের জানান।
তার বোনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জাব্বার আলীকে অনুরোধ করলে তিনি তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১ মে দুপুরে তার বাড়িতে গিয়ে আসামিদের হাতে নগদ তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। তারা তার বোনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। পরে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন জব্বার।
৭ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জব্বার আলীকে যশোর শহরের পালবাড়ি মোড়ে জনগণের সহযোগিতায় ধরে তার বোনকে ফিরিয়ে আনার জন্য বলেন। জব্বার আলী তার বোনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না বলে জানিয়ে দেন। বাড়াবাড়ি করলে সৌদি আরবে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলে যান।