যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

উকিলসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট,২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
উকিলসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

ভুয়া কাবিন, তালাকনামা এবং এফিডেভিটসহ প্রতারনার অভিযোগ এনে আইনজীবীসহ ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক গৃহবধু। বুধবার (১১আগষ্ট) বিকেলে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের আদেশে বাদিনীর এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি। মামলাটি এফআইআর করে যথযথ আইনী প্রক্রিয়ায় প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

অভিযুক্ত নোটারী পাবলিক আইনজীবী পি এম সিরাজুল ইসলাম আদালত অবমাননা, নৈতিক স্খলন ও জাল-জালিয়াতিতে জড়িত অভিযোগে কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি থেকে বহিষ্কৃত। মামলার অপর দুই আসামী হলেন- কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জলহাজ্ব উদ্দিনের ছেলে মহিদুল ইসলাম মিশন (৩৬) এবং কুষ্টিয়া শহরের পিয়ারাতলার বাসিন্দা আফিল উদ্দিনের ছেলে অমিত হাসান (৪০)।

এ খবর নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, আদালতের আদেশ প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করে ইতোমধ্যে নিযুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শুরু করেছেন।  

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিবাদী মহিদুল ইসলাম মিশনের সাথে বৈবাহিক ও দাম্পত্য জীবনে ৮ বছার বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে ওই নারীর। দাম্পত্যজীবনের এই পর্যায়ে এসে বিবাদী মহিদুলের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ১ম স্ত্রী বাদিনীর অজান্তেই গোপনে ২য় বিয়ে করেন বিবাদী।

এঘটনার প্রতিকার ও বিচার চেয়ে বাদিনী আদালতে নালিশী মামলা করেন। ওই মামলা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য বিবাদী মহিদুল আপস মিমাংশার কথা বলে জাল-জলিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। নোটারি পাবলিক আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলামের চেম্বারে অপর যোগসাজসী সহযোগী অমিত হাসানদের সাহায্যে বাদীর বিরুদ্ধে ভুয়া তালাকনামার বিপরীতে পূনরায় বাদীকে বিবাহের কাবিন তৈরী করেন এবং ২য় স্ত্রীকে তালাকের নামে ভুয়া তালাকনামা সৃষ্টি করেন। একই সাথে বাদীনীর সাথে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকারে একটি ভুয়া এফিডেভিট তৈরী করেন।

আসামীগণের পরষ্পর যোগসাজসে ভুয়াভাবে তৈরী করা এসব কাগজপত্রের শর্ত ভঙ্গ করায় বাদিনী ন্যায়বিচার চেয়ে পূনরায় আদালতের দ্বারস্ত হন।
আদালতের আদেশে তদন্তে নেমে বাদীনীর নালিশী এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ পায়। নোটারী পাবলিক আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলামের চেম্বারে সম্পন্ন হওয়া সকল সকল কাগজপত্রে জাল-জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রতারিত ভুক্তভোগী বাদিনী বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত এজাহারটি আমলে নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসিকে মামলা রেকর্ডের আদেশ দেন।

তবে অভিযোগ বিষয়ে নোটারী পাবলিক আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও কোন সাড়া মেলেনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরেই আদালত চত্বরে অসাধু নোটারী পাবলিক আইনজীবীদের ভুয়া বিয়ের কাবিন, তালাকনামা ও কোর্ট ম্যারেজের নামে করা ভুয়া এফিডেভিটে জনগণের সাথে প্রতারণাসহ বাল্যবিয়ের দৌড়াত্মে সাধারণ জনগণ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় আদালতের নজরেও এসেছে। এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী একজন বাদিনী কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন।

মামলা নং ১৩, তারিখ: ১১/০৮/২০২৬। মামলাটি দন্ড বিধি ৪৬৫/৪৬৭/৪৬৮/৪৬৯/৪৭১ ধারার অপরাধ গন্য করে তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ। এঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)